নিউজ ডেস্ক :
সরকার হিজড়াদের ‘লিঙ্গ পরিচয়কে’ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেয় প্রায় পাঁচ বছর আগেই। তবে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তারা তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি পায়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিজড়ারা ‘হিজড়া’ লিঙ্গ হিসেবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। আগের মতোই ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’ হিসেবে তাদের ভোট দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ভোটার তালিকা ও এর সিডি তৈরি হয়ে যাওয়ায় তালিকায় ‘হিজড়া’ লিঙ্গ হিসেবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।
২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে হিজড়াদের ‘লিঙ্গ পরিচয়কে’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে এ সংক্রান্ত ‘নীতিমালা অনুমোদন করা হয়।
এ ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়নের সময়ই নির্বাচন কমিশন ‘হিজড়া’র অপশন প্রস্তাবিত নিবন্ধন ফরমে যুক্ত করে। কিন্তু ভোটার তালিকা আইন ও ভোটার তালিকা বিধিমালা সংশোধন না হওয়ায় তা কার্যকর সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ৩৬তম সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, সরকার হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ‘হিজড়া’ লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কারণে ভোটার তালিকায় নারী ও পুরুষের মতো হিজড়াদেরও পৃথক লিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতাও দেখা দিয়েছে।
এসময় এর বাস্তবতা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হিজড়াদের জন্য আলাদা ভোটার তালিকা তৈরি করা সম্ভব নয়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা বিধিমালা সংশোধন করে হিজড়াদের লিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোনো হিজড়া ইসিতে যোগাযোগ করলে তাঁর তথ্য সংশোধন করে ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’–এর স্থলে ‘হিজড়া’ করে দেওয়া হবে।
বর্তমানে হিজড়ারা ‘নারী’ অথবা ‘পুরুষ’ হিসেবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন।
লাল বাটনে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি:






0 comments: