রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

কুলাউড়ায় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি আর গাড়িবিহীন রাস্তা, মানুষের চরম দুর্ভোগ


কুলাউড়া ডেস্ক : 
সংসদে সদ্য পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে সারাদেশে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এরই অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এই কর্মসূচি পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। যে দু’একটি পরিবহন পেঠের দায়ে রাস্তায় নেমেছে তাদেরকে গতিরোধ করে হুমকী-ধামকী দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুলাউড়া উপজেলার মানুষ।

এদিকে গতকাল ২৭ (অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে অবিরত টানা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আজও ঝড়ছে। বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটের অবস্থা হয়েছে নাজুক। হেঁটে চলাচলের মতো পরিবেশ নেই রাস্তা কিংবা ফুটপাতে।

অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে রবিবার রাস্তায় কোন যানবাহন চলছে না। ফলে অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বৃষ্টি আর শ্রমিকদের কর্মবিরতি দুইয়ে মিলে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

সরেজমিনে সকাল ১০টায় শহরে গিয়ে দেখা যায়, কুলাউড়ায় অফিসগামী মানুয গাড়ির অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। গাড়ি না পেয়ে অনেকেই হেঁটে কিংবা রিকশাভ্যানে করে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। আর বৃষ্টির কারনে রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশায় মানুষের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। তবুও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে, তাই তারা ছুটছেন।

গত ২৯ জুলাই বেপরোয়া বাসের চাপায় রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আন্দোলনে নামে ছাত্রছাত্রীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে বহুল আলোচিত এ আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন চলাকালে সড়ক পরিবহন আইন মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় সরকার। বহুল আলোচিত এই আইনের খসড়া এর আগে আট বছর ধরে ঝুলে ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর আইনটি সংসদে পাস হয়েছে।

সড়কে নিয়ম ভঙ্গে এ আইনে সাজা বাড়ানো হয়েছে। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানি ঘটানোর সাজা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। হতাহত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে দায়ী গাড়ির চালক ও মালিককে। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অপরাধে জেল-জরিমানা বেড়েছে। বেড়েছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলের সাজাও। চালক ও তার সহকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকরা এসব কঠোর বিধানের বিরোধী। তাদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনার মামলা জামিনযোগ্য করতে হবে। শ্রমিককে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে। চালকের লাইসেন্সপ্রাপ্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করতে হবে। অতিরিক্ত পণ্য বহনের জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল করতে হবে। সড়কে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের সময় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সত্যায়িত স্বাক্ষর থাকতে হবে। চালকদের জন্য সব জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করতে হবে এবং লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

শেয়ার করুন


0 comments: