বিনোদন ডেস্ক :
প্রায় দুই বছর সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকার পর অবশেষে ছাড়পত্র পেল নির্মাতা রাজীবুল হোসেনের 'হৃদয়ের রংধনু'। যেকোন সিনেমা মুক্তির আগে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেতে হয়। নিয়মানুযায়ী অনুমতির জন্যে ২০১৬ সালে সিনেমাটি জমা দেয়া হয় সেন্সর বোর্ডে।
প্রায় দুই বহর ধরে সিনেমাটি মুক্তির জন্যে লড়াই করে গেছেন নির্মাতা রাজীবুল হোসেন। বহুবার সেন্সর বোর্ড কর্তৃপক্ষকে প্রদর্শন করা হয়েছে সিনেমাটি। বোর্ড কর্তৃক প্রায় ৮ টি সংশোধনী দেয়া বলা হলে নির্মাতা ৩ টি সংশোধন করেন। বাকিগুলো নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন নির্মাতা। আদালতের আদেশে অবশেষে ২০১৮ সালে এসে ছাড়পত্র পেল সিনেমাটি।
সংশোধনীর ব্যাপারে নির্মাতা বলেন, সেন্সর বোর্ড কর্তৃক দেয়া ৮টি সংশোধনীর মধ্যে ৩ টির সংশোধন আমরা করি। বাকি সংশোধনীগুলো আসলে ছবিতেই ছিল না। যা ছবিতে নেই তা কীভাবে কর্তন করবো। তাই সেটাকেই আমরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম।
ছাড়পত্র পাবার পর নির্মাতা রাজীবুল হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে সেন্সর বোর্ডের সাথে লড়তে হয়েছে। অবশেষে আমি অনুমতি পত্র পেলাম। তবে স্বাধীন নির্মাতা হিসেবে আমার সিনেমা নিয়ে কোন আপোষ করিনি। এখানেই স্বাধীন চলচ্চিত্রের জয়।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উপর নির্মিত এই সিনেমাটি দেশের ৫৪ জেলায় দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছে দেশি-বিদেশী শিল্পীরা। এদের মধ্যে আছেন মিনা পেটকোভিচ (সার্বিয়া), শামস কাদির, মুহতাসিম স্বজন, খিং সাই মং মারমা।
সিনেমাটি ছাড়পত্র পাওয়াতে চলচ্চিত্র সংসদ ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি বেলায়েত হোসাইন মামুন নির্মাতাকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, বাংলাদেশের একজন স্বাধীন চলচ্চিত্রকারের জন্য এই লড়াই সহজকাজ নয়। জানি। কারন দেখেছি এই লড়াই। দিনের পর দিন। একজন নির্মাতার নত না হবার জিদ এবং অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্মাতার বিজয় আমাকে আনন্দিত করেছে। ফিল্ম সেন্সর বোর্ড কতগুলো কালাকানুন দিয়ে স্বাধীন, সৃজনশীল চলচ্চিত্রকারের স্বপ্নকে খুন করার কাজে নিয়জিত। অনেক খুনের নজির আমরা জানি। চলচ্চিত্রকার রাজীবুল হোসেনকে খুন করতে ব্যর্থ হয়েছে এই সেন্সর বোর্ড। তার এই বিজয় অবশ্যই আরও অনেক নির্মাতাকে সাহস ও শক্তি যোগাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সিনেমা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। সেসময় একজন স্বাধীন নির্মাতার ছবি এতদিন সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা শুধু নির্মাতার নয় পুরো দেশের সিনেমার জন্য হুমকিস্বরূপ।
আশা করা হচ্ছে আগামী বছরেই সিনেমাটি দেশব্যাপী মুক্তি দেয়া হবে।
লাল বাটনে ক্লিক করে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি:






0 comments: