শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

‘দেবী’ দেখে কত মার্ক দিল হ‌ুমায়ূন পরিবার?

বিনোদন ডেস্ক : 
নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দেবী’। বইয়ের পাতা থেকে সেই গল্প উঠে এসেছে পর্দায়। মুক্তির আগে ছবির প্রচারণার নতুন নতুন কৌশলে সুনাম কুড়িয়েছেন ছবির সহপ্রযোজক ও অভিনেত্রী জয়া আহসান। মুক্তি পর ছবিটি নিয়ে ঘুরছেন হলে হলে। দর্শকদের সঙ্গে 'দেবী' হয়ে দেখা করছেন জয়া। ছবিটি শোবিজ দুনিয়ার তারকারা দেখেও প্রশংসা করেছেন।
এবার  ছবিটি দেখলেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যরা। রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন  দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতকে দিয়ে দেখেছেন 'দেবী'। পরের দিন একই সিনেপ্লেক্সে হুমায়ূনকন্যা শীলা আহমেদ ও পূত্র নুহাশ হ‌ুমায়ূন দেখেন ছবিটি। ‘দেবী’ দেখার পর মার্ক দিয়েছেন তারা। জানিয়েছেন অনুভূতি। 
‘দেবী’ দেখে হুমায়ূনপুত্র নিষাদ দিয়েছে ১০ এ ১০। আর নিনিত দিয়েছে ৮ নম্বর। ২ নম্বর কেটে রেখেছে সে। কারণ ‘দেবী’ দেখে ভয় পেয়েছে সে। এমন তথ্যই দিলেন ‘দেবী’র রানু জয়া আহসান।
 ‘দেবী’ দেখে হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও অভিনেত্রী, নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘মাথায় হ‌ুমায়ূন আহমেদের ‘দেবী’কে না নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে যান। চলচ্চিত্র হিসেবে 'দেবী' দেখুন, ভালো লাগবে। আমি মনে করি প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় ভালো অভিনয় করেছেন। সাউন্ড ডিজাইনিং সবই  ভালো লেগেছে। আমাদের দেশে এমন সাউন্ড ডিজাইনের ছবি খুব একটা হয়না।'
ছবিটি দেখার পর শীলা আহমেদ বলেন, ‘আমি অভিনেত্রী জয়া আহসানের ছবি হিসেবেই দেখেছি। দারুণ করেছে সে। তার চেষ্টা আমার মন ছুঁয়ে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছবিটির পুরো টিম কষ্ট করেছে। আরেকটা বিষয় বলতে চাই, সেটা হচ্ছে আমার বাবার নির্মিত ছবিগুলোও দেবীর মতো এমন গোছানো লাগেনি আমার কাছে। এতে সবার অভিনয় আমার পছন্দ হয়েছে। আর ছোটবেলা থেকেই আমি জয়া আহসানের বড় ভক্ত। নীলু চরিত্র খুব ভালো লেগেছে।’ 
এছাড়া এই প্রথম হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে কাজ করলেন জয়া। হুমায়ূন পরিবারের সদস্য হিসেবে ছবিটি দেখতে আমন্ত্রণ জানানোয় সম্মানিত বোধ করছেন বলেও জানান শিলা। 
নুহাশ বলেন, '‘ছবিটি দেখার পর বলতে পারি অনেক ভালোবাসা থেকে ছবিটি বানানো হয়েছে। দারুণ একটা দল কাজ করেছে ছবিটির পেছনে।  ‘দেবী’ উপন্যাস থেকে অনেক কিছু বদল করা হয়েছে পর্দার দেবীর জন্য। তবে এটা চোখে লাগেনি। ভালোই মনে হয়েছে। উপন্যাস নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে গল্পের মেজাজ তুলে ধরতে পারা খুব কষ্টসাধ্য; কিন্তু এই ছবিতে সেটা ভালোভাবেই পেয়েছি।’’
নুহাশ আরও বলেন, ‘শুধু হুমায়ূন আহমেদের নামের জন্য কিংবা প্রচারণার জন্য ছবিটি করা হয়নি। গল্পটা ভালোবেসে ছবিটি বানানো হয়েছে। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। জয়া আহসানের অভিনয় খুব ভালো লেগেছে। পুরো কাস্টিং ভালোভাবেই হয়েছে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে দারুণ কিছু করার চেষ্টা করেছেন।’
তবে মিসির আলী নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানান নুহাশ। কারণ ছোটবেলা থেকে মিসির আলী হিসেবে বাবাকে দেখেন তিনি। পাশাপাশি সবাইকে ছবিটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 
'দেবী'র প্রযোজক ও রানু চরিত্রের অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেন, ‘অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই যখন কেউ আমার কাছে জানতে চেয়েছে, প্রিয় অভিনেত্রী কে? আমি বরাবরই শিলা আহমেদের নাম নিয়েছি। আমি নিশ্চিত, আমার মত আরও অনেকেই শিলা আহমেদের অভিনয়ের ভক্ত। সেই শিলা আমার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দেবী’ দেখতে এসে আমাদের অনেক বেশি সম্মানিত করেছে। আমি কৃতজ্ঞ। আমরা কৃতজ্ঞ।নুহাশ হুমায়ূনের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করতে চাই। ‘দেবী’ চলচ্চিত্রের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নুহাশকে পাশে পেয়েছি। ধন্যবাদ নুহাশ হুমায়ূন।আমরা যারা হুমায়ূন আহমেদ স্যারকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি, স্মরণ করি, তারা হুমায়ূন আহমেদ স্যারের পরিবারকেও ভীষণভাবে ভালোবাসি। নোভা, শিলা, বিপাশা, নুহাশ-আমরা সবাই তোমাদের অনেক ভালোবাসি। তোমাদের জন্য দোয়া। স্যারের জন্য দোয়া। স্যার বেঁচে থাকবেন তার কাজের মাঝে।’’

শেয়ার করুন


0 comments: